WEST BENGAL ELECTION 2026,23 APRIL

Spread the love

WEST BENGAL ELECTION 2026:প্রথম দফার ভোট কাল, ভাগ্য নির্ধারণ হবে ১৫২টি কেন্দ্রে | জানুন বিস্তারিত গাইডলাইন

​বাংলার রাজনীতির সবথেকে বড় লড়াইয়ের মাহেন্দ্রক্ষণ সমাগত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামীকাল, ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতে চলেছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে কাল সকাল ৭টা থেকে শুরু হবে গণতান্ত্রিক উৎসব। রাজ্যের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ কার হাতে থাকবে, তার প্রথম ধাপের লড়াই কাল।

​১. ভোটের সময়সূচী ও গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান

​নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, এবার ভোটগ্রহণ হচ্ছে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে।

  • ভোটের তারিখ: ২৩শে এপ্রিল (প্রথম দফা) এবং ২৯শে এপ্রিল (দ্বিতীয় দফা)।
  • সময়: সকাল ৭:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ টা পর্যন্ত।
  • আসন সংখ্যা: প্রথম দফায় ১৫২টি এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট হবে।
  • ফলাফল: আগামী ৪ঠা মে জানা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছেন।

​২. ভোটারদের জন্য প্রয়োজনীয় নথি (Identity Proof)

​ভোট দিতে যাওয়ার সময় আপনার কাছে ভোটার কার্ড (EPIC) থাকা বাধ্যতামূলক। তবে যদি কোনো কারণে ভোটার কার্ড না থাকে, তাহলেও আপনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন নিচের যেকোনো একটি আসল (Original) নথি দেখিয়ে:

  • ​আধার কার্ড (Aadhaar Card)
  • ​প্যান কার্ড (PAN Card)
  • ​মহাত্মা গান্ধী এনআরইজিএ জব কার্ড
  • ​ছবিসহ ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের পাসবুক
  • ​ড্রাইভিং লাইসেন্স
  • ​পাসপোর্ট
  • ​ছবিসহ পেনশন নথি

​৩. ইভিএম ও ভিভিপ্যাট (EVM & VVPAT) পরীক্ষা করার নিয়ম

​আপনার ভোটটি সঠিক জায়গায় পড়ল কি না তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি বুথে থাকবে VVPAT মেশিন।

  • ​বোতাম টিপার পর ভিভিপ্যাট মেশিনের কাঁচের ভেতর একটি স্লিপ দেখা যাবে।
  • ​সেখানে আপনি যাকে ভোট দিয়েছেন তার নাম ও প্রতীক চিহ্নটি দেখা যাচ্ছে কি না তা মিলিয়ে নিন।
  • ​স্লিপটি ৭ সেকেন্ড পর্যন্ত দৃশ্যমান থাকবে এবং তারপর নিজে থেকেই ড্রপ বক্সে পড়ে যাবে।

​৪. বুথ কেন্দ্রে কঠোর বিধিনিষেধ

​শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কমিশন কিছু কঠোর নিয়ম জারি করেছে:

  • স্মার্টফোন নিষিদ্ধ: বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে এবং বুথের ভেতর মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ বা যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • জটলা পাকানো: ভোটকেন্দ্রের বাইরে অযথা ভিড় বা জটলা পাকানো যাবে না। ১৪৪ ধারা জারি থাকতে পারে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে।
  • নিরাপত্তা: প্রতিটি বুথে মোতায়েন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ।

​৫. প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু ও লড়াইয়ের ময়দান

​এবারের নির্বাচনে লড়াই মূলত ত্রিমুখী। সাধারণ মানুষের কাছে দলগুলোর প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো হলো:

  • উন্নয়ন ও জনকল্যাণ: শাসক দল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো সফল প্রকল্পগুলোর ওপর ভিত্তি করে মানুষের আস্থা চাইছে।
  • দুর্নীতি ও কর্মসংস্থান: বিরোধী দলগুলো বেকার সমস্যা এবং সরকারি চাকরিতে দুর্নীতির বিষয়গুলোকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
  • সরকারি কর্মচারীদের ডিএ (DA): রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ এবং পে-কমিশন কার্যকর করার বিষয়টি এবারের নির্বাচনের অন্যতম বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​৬. প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের বিশেষ সুবিধা

​৮০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য ‘হোম ভোটিং’ বা বাড়ি থেকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও বুথগুলোতে হুইলচেয়ার এবং র‍্যাম্পের সুব্যবস্থা থাকছে।

​উপসংহার

​ভোট দেওয়া কেবল অধিকার নয়, এটি আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। আপনার একটি সুচিন্তিত ভোট আগামী ৫ বছরের জন্য পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিকাঠামোর মান নির্ধারণ করবে। তাই ভয়ভীতিহীনভাবে সুস্থ পরিবেশে কাল সকালেই আপনার নিকটস্থ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top