
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: দ্বিতীয় দফার লড়াইয়ে দক্ষিণবঙ্গ, কে হাসবে শেষ হাসি? পড়ুন বিস্তারিত বিশ্লেষণ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হতে চলেছে আগামী ২৯শে এপ্রিল ২০২৬। দুই দফায় বিন্যস্ত এই নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় ভোট হবে রাজ্যের ১৪২টি আসনে। কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং মেদিনীপুর সংলগ্ন জেলাগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ হবে এই দিনে। আগামীকাল (২৩শে এপ্রিল) প্রথম দফার ভোটের পর সবার নজর এখন ২৯শে এপ্রিলের ‘মহারণ’-এর দিকে।
১. দ্বিতীয় দফার জেলা ও আসন বিন্যাস (২৯শে এপ্রিল)
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় মূলত দক্ষিণবঙ্গের ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। যে জেলাগুলোতে ভোট হবে:
- কলকাতা: সবকটি আসন (ভবানীপুর, বালিগঞ্জ, টালিগঞ্জ ইত্যাদি)।
- উত্তর ২৪ পরগনা: (দমদম, কামারহাটি, বারাসাত, হাবড়া ইত্যাদি)।
- দক্ষিণ ২৪ পরগনা: (বেহালা, সোনারপুর, ডায়মন্ড হারবার ইত্যাদি)।
- হাওড়া ও হুগলি: শিল্পাঞ্চল ভিত্তিক আসনসমূহ।
- নদীয়া: একাংশ (কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর ইত্যাদি)।
- মেদিনীপুর (পূর্ব ও পশ্চিম), বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম।
২. দ্বিতীয় দফার ‘হট সিট’ ও হেভিওয়েট প্রার্থী তালিকা
দ্বিতীয় দফার সবথেকে বড় লড়াই হতে চলেছে কলকাতায়। অনেক রথী-মহারথীর ভাগ্য কাল নির্ধারিত হবে:

৩. কার পাল্লা ভারী? রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
দ্বিতীয় দফার লড়াই মূলত তৃণমূল বনাম বিজেপি-র হলেও শহরাঞ্চলে বাম-কংগ্রেস জোট এবার নির্ণায়ক ফ্যাক্টর হতে পারে।
- তৃণমূলের শক্তি: ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং ‘স্বাস্থ্যসাথী’র মতো প্রকল্পের জনপ্রিয়তা দক্ষিণবঙ্গের মহিলাদের মধ্যে প্রবল। এছাড়াও কলকাতার মজবুত সাংগঠনিক শক্তি তৃণমূলের বড় অস্ত্র।
- বিজেপির চ্যালেঞ্জ: কেন্দ্রীয় হারে ডিএ (DA) এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি বিজেপির দিকে অনেক চাকুরিজীবীকে আকৃষ্ট করেছে। বিশেষ করে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে দুর্নীতির ইস্যুকে তারা হাতিয়ার করছে।
- জোটের উত্থান: তরুণ প্রার্থীদের (সায়নদীপ মিত্র বা দেবদূত ঘোষ) লড়াই শহুরে শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
৪. ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন
ভোটের দিন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে চলুন:
- সচিত্র পরিচয়পত্র: ভোটার কার্ড না থাকলে আধার, প্যান বা ড্রাইভিং লাইসেন্স সাথে রাখুন।
- মোবাইল ফোন: বুথের ভেতরে মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক গ্যাজেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- ভোটের সময়: সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
৫. প্রথম বারের ভোটারদের নজর
এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের সংখ্যা নজরকাড়া। কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল শিক্ষার প্রতিশ্রুতি এবার ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
উপসংহার
২০২৬-এর এই দ্বিতীয় দফার লড়াই কেবল আসন জয়ের নয়, এটি বাংলার আগামীর রাজনৈতিক দিক পরিবর্তনের লড়াই। ভবানীপুরের প্রেস্টিজ ফাইট থেকে শুরু করে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ভোট—সব মিলিয়ে ২৯শে এপ্রিল হতে চলেছে এক টানটান উত্তেজনাপূর্ণ দিন।

